২৪ঘণ্টা অনলাইন : ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব সান্তোসে যেন এক অদ্ভুত নাটক চলছে। ফ্ল্যামেঙ্গোর বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে হারের রাতে মাঠে যেমন ছিল বিশৃঙ্খলা, তেমনি ছিল ড্রেসিংরুমে উত্তেজনা। আর সেই কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন দলের তারকা নেইমার জুনিয়র। নিজের ঘরেই যেন এখন একা তিনি।
মারাকানায় ম্যাচের ৬৬ মিনিটে ঘটে যায় চমকে দেওয়া এক মুহূর্ত। দল তখন ২-০ গোলে পিছিয়ে। নেইমার মাঠে চিৎকার করে সতীর্থদের নির্দেশ দিচ্ছিলেন— লং পাস বন্ধ করে, নিচে থেকে নিয়ন্ত্রিত ছোট পাসে খেলা বের করে আনতে। কিন্তু কেউ যেন তার কথা শুনলই না।
হতাশ নেইমার নিজেই গোলকিপারের জায়গায় নেমে এসে গোল কিক নিলেন, নিজের মতো করে আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু পরের মুহূর্তেই ডিফেন্ডার লুয়ান পেরেস আবারও এক লম্বা বল মারলেন সামনে—যে পাস সহজেই আটকে গেলো ফ্ল্যামেঙ্গোর রক্ষণে। নেইমার তখন হাত তুলে স্থির দাঁড়িয়ে, মুখে অবিশ্বাসের ছাপ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সেই দৃশ্যকে ভক্তরা বলছেন, নেইমারের ক্যারিয়ারের এটিই সবচেয়ে বড় ঘটনা—যেখানে প্রতিভা, হতাশা আর একাকিত্ব একসঙ্গে মিশে গেছে।
এরপর ম্যাচের ৮৫ মিনিটে কোচ হুয়ান পাবলো ভয়োদা তাকে তুলে নেন মাঠ থেকে। তখন সান্তোস ৩-০ গোলে পিছিয়ে। কোচের সিদ্ধান্তে ক্ষিপ্ত নেইমার সরাসরি বলে ওঠেন, ‘আমাকে তুলে নিচ্ছো, আমাকে?’
তারপর আর বেঞ্চে না বসে সোজা হেঁটে চলে যান ড্রেসিংরুমে। শেষ দিকে সান্তোস দুই গোল করলেও হারের ব্যবধান ঘোচাতে পারেনি। ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে দল রয়ে গেছে অবনমনের ঠিক কাছে।
ম্যাচশেষে অবশ্য প্রধান কোচ পরিস্থিতি ঠান্ডা করার চেষ্টা করেন।তিনি বলেন, ‘একজন খেলোয়াড় জেতার ইচ্ছায় এমন প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে, এটা স্বাভাবিক।’
এদিকে নেইমারের ফিটনেস ও মানসিক ক্লান্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আল-হিলাল থেকে ফিরে জানুয়ারি মাসে সান্তোসে যোগ দেওয়ার পর থেকে ১৫ ম্যাচে তিন গোল ও অ্যাসিস্টে তার পারফরম্যান্স গড়পড়তা।
তাই নেইমারের ভবিষ্যৎ এখন সংশয়ে। ক্লাব প্রেসিডেন্ট মার্সেলো তেইশেইরা জানিয়েছেন, ‘চুক্তি নবায়ন নিয়ে আমরা আলোচনা করছি, কিন্তু সান্তোসের সামর্থ্য সীমিত। নেইমারের লক্ষ্য ২০২৬ বিশ্বকাপ, তার সঙ্গেই সিদ্ধান্ত মিলবে।’
অপরদিকে, ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি এখনও তাকে দলে ডাকেননি। বলেছেন, ‘নেইমার এখন উইঙ্গার নয়, ওকে সেন্ট্রাল রোলে খেলতে হবে। আজকের ফুটবলে উইঙ্গারদের ডিফেন্সেও কাজ করতে হয়।’
এখন সান্তোসের সামনে ছয়টি ম্যাচ—এর মধ্যে পরেরটাই সবচেয়ে কঠিন, লিগের শীর্ষে থাকা পালমেইরাসের বিপক্ষে। অবনমন ঠেকাতে হলে নেইমারকেই হতে হবে নেতৃত্বের প্রতীক।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামি পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। মিডিয়া রিপোর্ট বলছে, সান্তোস রেলিগেট হলে সাবেক সতীর্থ লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে খেলতে নেইমার দ্রুতই মায়ামিতে চলে যেতে পারেন।
