রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
২ কার্তিক ১৪৩৩

দুই সুপার ওভারের নাটকীয় এক ম্যাচ

প্রকাশিত - ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬   ০২:৩০ এএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন : দেখে মনে হচ্ছিল হলিউডের কোনো সিনেমা।  রোমাঞ্চ ছড়ানো পরতে পরতে। আহমেদাবাদে দক্ষিণ আফ্রিকা-আফগানিস্তান ম্যাচটি ছিল তেমন একটি। নিঃসন্দেহে টি-২০ বিশ্বকাপের সেরা ম্যাচ। এমন উত্তেজনায় ভরা, স্নায়ুযুদ্ধের ম্যাচ ক্রিকেটপ্রেমীরা কখনো দেখেছেন কি না সেটা জানতে ডায়েরির পাতা খুঁজে বেড়াতে হবে। পাওয়া যায়নি কিছুই। কারণ দুই দলের ম্যাচটি ছিল শুধু টি-২০ ক্রিকেট নয়, সব ধরনের ক্রিকেটেই সেরাগুলোর অন্যতম। গ্রুপ ‘ডি’র ম্যাচটি প্রথমে টাই হয়। এরপর গড়ায় সুপার ওভারে। প্রথম সুপার ওভারটি টাই হয়। এরপর দ্বিতীয় সুপার ওভারে নির্ধারিত হয় ফল। ট্রিস্টান স্টাবস-ডেভিড মিলার জুটিতে দ্বিতীয় সুপার ওভারে ৪ রানে জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। টানটান উত্তেজনার ম্যাচটি জিতে সুপার এইটের পথে পা দিয়ে ফেলেছে প্রোটিয়ারা। টানা দুই হারে কার্যত বিদায়ের টানেলে আফগানিস্তান। গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তান হেরেছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের প্রথম ম্যাচে হারিয়েছিল কানাডাকে।

প্রথম ব্যাটিংয়ে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮৭ রান করে এইডেন মার্করামের দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৮৮ রানের টার্গেটে আফগানিস্তান জয়ের ভিত তৈরি করেছিল ওপেনার গুরবাজের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে। নির্ধারিত ম্যাচের শেষ ওভারে ১৩ রান দরকার ছিল আফগানদের। রাবাদা ওভারের প্রথম বলে আফগান শেষ ব্যাটার নুর আহমেদকে বোল্ড করেন। কিন্তু বলটি ছিল নো। পরের বলে ওয়াইড। পরের বলে কোনো রান নিতে পারেননি। এরপর নূর ছক্কা মেরে জমিয়ে তোলেন ম্যাচ। শেষ ৩ বলে দরকার মাত্র ২ রান, হাতে ১ উইকেট। ফজলহক ফারুকি দ্রুত ডাবল নিতে গিয়ে রানআউট হন। ম্যাচ টাই। সুপার ওভারে গড়ায় ম্যাচ। প্রথম সুপার ওভারে ১৭ রান করে আফগানিস্তান। তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার শেষ ৩ বলে দরকার হয় ১১ রান। ট্রিস্টান স্টাবস শেষ ৩ বলে এক চার ও এক ছক্কায় ১০ রান নিলে টাই হয় ম্যাচ। এরপর ম্যাচ গড়ায় দ্বিতীয় সুপার ওভারে।

টি-২০ ক্রিকেট ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ম্যাচ দ্বিতীয়বার সুপার ওভারে গড়ায়। শুরুতে ব্যাটিং করে প্রোটিয়ারা। স্টাবস ও মিলার ব্যাটিং করে ৩ ছক্কায় স্কোর বোর্ডে জমা করেন ২৩ রান। ২৪ রানের টার্গেটে আফগানিস্তানের রহমতউল্লাহ গুরবাজ চেষ্টা করেন। প্রোটিয়া বাঁ-হাতি স্পিনার কেশব মহারাজের প্রথম বলটি ডট। পরের বলে মোহাম্মদ নবীকে আউট করেন মহারাজ। ৪ বলে দরকার ২৪ রান। ম্যাচ পুরোপুরি হেলে পরে দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে। কিন্তু তখনো চরম নাটকীয়তা ছিল ম্যাচে। গুরবাজ টানা তিন বলে ৩ ছক্কা মেরে ম্যাচ জমিয়ে দেন। এক বলে দরকার একটি ছক্কা। মহারাজ ওভারের শেষ বলটি ওয়াইড করেন চাপের মুখে। শেষ বলের সমীকরণ দাঁড়ায় ৫ রান। সেই চাপ নিতে না পেরে আউট হন গুরবাজ। আফগানিস্তান ম্যাচ হেরে যায় ৪ রানে।  

২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড ফাইনালে দুবার সুপার ওভার হয়েছিল। দ্বিতীয় সুপার ওভারে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইংল্যান্ড।

প্রথম ব্যাটিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮৭ রান করে। অধিনায়ক মার্করাম ৫ রান করেন। উইকেটরক্ষক ব্যাটার কুইন্টন ডি কক ৫৯ রান করেন ৪১ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায়। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে কক ও রায়ান রিকেলটন ৬১ বলে ১১৪ রান যোগ করেন। রিকেলটন ৬১ রান করেন মাত্র ২৮ বলে ৫ চার ও ৪ ছক্কায়। শেষ দিকে মিলার ১৫ বলে অপরাজিত ২০ ও মার্কো জেনসেন ৭ বলে অপরাজিত ১৬ রান করেন। আফগানদের পক্ষে রশিদ খান ২ উইকেট নেন ২৮ রানের খরচে। ১৮৮ রানের খরচে আফগান দুই ওপেনার গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান ৫১ রানের ভিত দেন। এরপর আর কোনো বড় জুটি গড়তে না পরায় ম্যাচটি ‘টাই’ হয় এবং গড়ায় সুপার ওভারে। দলের অপরাপর ব্যাটাররা না পারলেও রহমানুল্লাহ গুরবাজ ৮৪ রান করেন মাত্র ৪২ বলে। ২০০ স্ট্রাইক রেটের ইনিংসটিতে ছিল ৪টি চার ও ৭টি ছক্কা।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
২৪ঘণ্টা অনলাইন : ইংল্যান্ডের তারকা মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যামের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে সমঝোতায় পৌঁছেছে রিয়াল মাদ্রিদ। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত স্প্যানিশ ক্লাবটিতে থাকার কথা রয়েছে তাঁর।...
মেজর চাকলাদার (অব.)