শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

অস্ট্রেলিয়া কুপোকাত জিম্বাবুয়েতে

প্রকাশিত - ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬   ০৫:৪৪ পিএম
webnews24

জিম্বাবুয়ে : ২০ ওভারে ১৬৯/২
অস্ট্রেলিয়া : ১৯.৩ ওভারে ১৪৬
ফল : জিম্বাবুয়ে ২৩ রানে জয়ী

২৪ঘণ্টা অনলাইন :  টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এর চেয়ে কি হতে পারে বড় অঘটন।  আর সেটা ঘটিয়েছে জিম্বাবুয়ে। মহাশক্তির অস্ট্রেলিয়াকে ২৩ রানে হারিয়ে জিম্বাবুয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

প্রেমাদাসায় মনে রাখার মতো এক স্মৃতি উপহার দিয়েছে সিকান্দার রাজার দল। অবশ্য এমন অঘটন আগেও হয়েছিল। ২০০৭ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপেও কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। 

আগে ব্যাট করে ২ উইকেটে ১৬৯ তোলা জিম্বাবুয়ের হয়ে ৫৬ বলে ৬৪ রানে অপরাজিত ছিলেন ওপেনার ব্রায়ান বেনেট। এর সঙ্গে মারুমানির ২১ বলে ৩৫, রায়ান বার্লের ৩০ বলে ৩৫ এবং সিকান্দারের অপরাজিত ১৩ বলে ২৫ রানের ইনিংসে লড়ার মতো স্কোর পেয়ে যায় তারা। জবাবে বোলিংয়ে জিম্বাবুয়ে যতটা ভালো করেছে, তার চেয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতাই চোখে বিঁধেছে বেশি। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারও খেলতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ১৯.৩ ওভারে ১৪৬ রানে অলআউট হয় ২০২১ সালের টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নরা।

ঘটনার শুরু ছিল হারার মতোই। মাত্র ৪.৩ ওভারের মধ্যে ২৯ রানে অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেট হারানোর পর বিপাকে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তবে ম্যাক্সওয়েল দাঁড়াতে পারলে অস্ট্রেলিয়াকে কোনো চিন্তাই করতে হতো না। পঞ্চম উইকেটে ম্যাট রেনশর সঙ্গে ৫৯ বলে ৭৭ রানের জুটি গড়েছিলেন ম্যাক্সওয়েল। ১৪.২ ওভারে বার্লের লেগ স্পিনে ম্যাক্সওয়েল (৩২ বলে ৩১) দুর্ভাগ্যজনকভাবে যখন বোল্ড হলেন, তখন জয়ের জন্য ৩৪ বলে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ৬৪।  মার্কাস স্টয়নিস ক্রিজে আসায় জিম্বাবুয়ের সমর্থকেরা তখনো হয়তো জয়ের স্বপ্ন দেখতে ভয় পাচ্ছিলেন। কিন্তু বোলিংয়ের সময় হাতে আঘাত পাওয়া স্টয়নিস (৪ বলে ৬) পরের ওভারেই হ্যামিল্টন মাসাকাদজার বলে আউট হওয়ার পর জিম্বাবুয়েকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ফিফটি তুলে নেওয়া রেনশ ক্রিজে থাকায় অস্ট্রেলিয়া এরপরও চেষ্টা করেছে। ১৯তম ওভারে তিন বলের মধ্যে ব্লেসিং মুজারাবানি রেনশ (৪৪ বলে ৬৫) ও অ্যাডাম জাম্পাকে তুলে নেওয়ার পর আর কিছুই করার ছিল না অস্ট্রেলিয়ার। ৪ ওভারে ১৭ রানে ৪টি উইকেট নেওয়া মুজারাবানির টি–টুয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটাই সেরা বোলিং। দেশের হয়ে টি–টুয়েন্টিতে শততম উইকেটের দেখাও পেলেন। ৩.৩ ওভারে ২৩ রানে ৩ উইকেট ইভানসের। ম্যাচসেরা হয়েছেন ব্লেসিং মুজারাবানি।

টানা দুই জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপে পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে উঠে এল জিম্বাবুয়ে। সুপার এইটে ওঠার পথটা তাদের জন্য আরেকটু মসৃণ হলো। শ্রীলঙ্কার (৩.১২৫) সংগ্রহও ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট, তবে জিম্বাবুয়ের (১.৯৮৪) সঙ্গে রানরেটে এগিয়ে শীর্ষে তারা।

২ ম্যাচে ১ জয় ও ১ হারে ২ পয়েন্ট নিয়ে তিনে অস্ট্রেলিয়া (১.১০০)। গ্রুপ পর্বে আর দুটি ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ও ওমান। আগামী সোমবার শ্রীলঙ্কার কাছে হারলে অস্ট্রেলিয়ার সুপার এইটে ওঠার পথ দৃশ্যত রুদ্ধ হয়ে যাবে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
জিম্বাবুয়ে : ২০ ওভারে ১৬৯/২ (বেনেট ৬৪, মারুমানি ৩৫, বার্ল ৩৫, রাজা ২৫*; জাম্পা ০/৩১, এলিস ০/৩৪, স্টয়নিস ১/১৭)

অস্ট্রেলিয়া : ১৯.৩ ওভারে ১৪৬ (রেনশ ৬৫, ম্যাক্সওয়েল ৩১, হেড ১৭; মুজারাবানি ৪/১৭, ইভানস ৩/২৩, বার্ল ১/৯, মাসাকাদজা ১/৩৬)

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
মেজর চাকলাদার (অব.)