শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোয়ার্টার ফাইনাল

প্রকাশিত - ০১ মার্চ, ২০২৬   ১১:২৫ এএম
webnews24

২৪ঘণ্টা অনলাইন : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১ মার্চ ইডেনে ভারত খেলতে নামবে। এটা ছিল একটি সাধারণ সূচি মাত্র। কিন্তু ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ লড়াই যে কোয়ার্টার ফাইনাল হয়ে যাবে কেউ আগাম ভাবেনি। সেমিফাইনালে উঠতে গেলে যে ম্যাচে জিততেই হবে।

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে প্রথম ম্যাচ হার ভারতের আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা দিয়েছিল। তা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা গিয়েছে জিম্বাবেয়ের বিরুদ্ধে দাপুটে জয়ে। স্বস্তি বেড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোয়। রবিবার নামার আগে ভারতকে অন্তত রান রেট নিয়ে ভাবতে হচ্ছে না। তবে চিন্তা তাতে কমছে না। স্যামসনকে যেমন ফর্মে ফিরতে হবে, তেমনই ভারত তাকিয়ে থাকবে বরুণ চক্রবর্তীর পারফরম্যান্সের দিকে। আপাতত এই দুই ক্রিকেটারকে নিয়েই যাবতীয় চিন্তা।

জিম্বাবেয়ের বিরুদ্ধে প্রায় সকলেই রান পেয়েছিলেন। অভিষেক শর্মার অর্ধশতরান তাকে নিঃসন্দেহে আত্মবিশ্বাস জোগাবে। ঈশান কিশন, তিলক বর্মা, সূর্যকুমারেরাও যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামবেন। তবে প্রথম একাদশে প্রত্যাবর্তন করা সঞ্জু আগের ম্যাচে ২৪-এর বেশি করতে পারেননি। সেমিফাইনালেও জায়গা পাকা করতে গেলে ইডেনে তাকে বড় রান করতে হবে।

বোলারদের মধ্যে চিন্তা বরুণকে নিয়ে। কলম্বোয় তাঁর স্পিন ভারতকে সুবিধা দিয়েছে। কিন্তু যেখানে একটু পেস সহায়ক পিচ, সেখানে বরুণের বোলিং কাজে আসছে না। জিম্বাবেয়ের মতো দলের বিরুদ্ধেও তিনি চার ওভারে ৩৫ রান হজম করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৪৭ রান। বরুণকে সরিয়ে একাদশে কুলদীপ যাদবকে ফেরানোও হতে পারে। বরুণ আইপিএলে কলকাতার হয়ে খেলেন। ফলে ইডেন তার হাতের তালুর মতো চেনা। কুলদীপও দীর্ঘ দিন কলকাতার হয়ে খেলার সুবাদে ইডেন ভাল মতোই চেনেন। ফলে দু’জনের মধ্যে যে কোনও একজনকে বেছে নিতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। সাধারণ বুদ্ধিতে বলে, জয়ী দলের কম্বিনেশন ভাঙা উচিত নয়। তবে গৌতম গম্ভীরের আমলে দল নির্বাচন নিয়ে কোনও ভবিষ্যদ্বাণীই চূড়ান্ত নয়।

ইডেনের পিচে ঘাস থাকার সম্ভাবনা। ফলে জসপ্রীত বুমরাহ, অর্শদীপ সিংহ এবং হার্দিক পিচের সুবিধা নিয়ে ভাল বল করতে পারেন। যা করার শুরুতেই করতে হবে। কারণ রবিবার ইডেনে শিশির পড়বে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে কোনও মতেই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। বিশ্বকাপে ভারত প্রথমবার ইডেনে খেলতে নামলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দু’টি ম্যাচ খেলে ফেলেছে এবং অনায়াসে জিতেছে। ফলে তাদের কাছে ইডেনের পরিবেশ পরিচিত। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে তাদের অপরাজিত থাকার দৌড় থামলেও, ওয়েস্ট ইন্ডিজ় দলে তারকার অভাব নেই। যারা প্রথম একাদশে খেলেন, তারা বিশ্বের বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগে দীর্ঘ দিন খেলে অভ্যস্ত।

শিমরন হেটমায়ারের কথাই ধরা যাক। ছন্দে রয়েছেন ক্যারিবীয় ব্যাটার। তিন নম্বরে তিনি দাঁড়িয়ে গেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আটকানো কঠিন। শেরফানে রাদারফোর্ড, রভমান পাওয়েলের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। যদি সকলে ব্যর্থ হন, তা হলে রয়েছেন জেসন হোল্ডার, রোমারিয়ো শেফার্ডেরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজ টপ এবং মিডল অর্ডার ব্যর্থ হলেও হোল্ডার এবং শেফার্ড মিলে লড়াকু স্কোরে পৌঁছে দিয়েছিলেন। ভারত নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে না পারলে যথেষ্ট মাথাব্যথার কারণ থাকছে। ইডেনের শুষ্ক পিচের কথা মাথায় রেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ফেরাতে পারে আকিল হোসেনকে।

ঠিক ১০ বছর আগে এই ইডেনেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হাতে তুলেছিল। সে বার সেমিফাইনালে হারিয়েছিল ভারতকে। আরও একটি নকআউট ম্যাচ খেলতে চলেছে দুই প্রতিপক্ষ। এখন দেখার, সূর্যকুমার না শাই হোপ, রবিবার শেষ হাসি কে হাসেন।

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন
ওয়েব নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও পড়ুন
মেজর চাকলাদার (অব.)